ব্যাটল অফ সুয়েজ : মিশরীয় মিলিশিয়াদের হাতে ইসরাইলের লজ্জাজনক পরাজয় (পর্ব-১)

১৯৭৩ সালের অক্টোবর মাস। চলছে চতুর্থ আরব-ইসরাইল যুদ্ধ। ইতিহাসে এই যুদ্ধ ইয়াম কিপুর যুদ্ধ নামেও পরিচিত। আমার আগের আর্টিকেলে এই যুদ্ধের শুরুর প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেছি। আজকের লেখার ঘটনাটি ইসমাইলিয়া যুদ্ধের ঠিক পরপরই ঘটেছিল। তাই সম্মানিত পাঠকদের আগে ব্যাটল অফ ইসমাইলিয়া’ পড়ে নেয়ার অনুরোধ করছি।

ইসমাইলিয়া শহরে ইসরাইলের ব্যাপক প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও তারা হেরেছিল একদল হার না মানা মনোভাবের মিশরীয় প্যারাট্রুপার সেনাদের কাছে। কিন্তু ব্যাটল অফ সুয়েজে ঘটনা ছিল উল্টো। ইয়াম কিপুর যুদ্ধে মিশরীয় সেনাবাহিনীদের পাশাপাশি প্রচুর বেসামরিক জনগণ ইসরাইলি পাল্টা হামলা থেকে মাতৃভূমি রক্ষার্থে অস্ত্র ধরেছিল। এদেরকে মিলিশিয়া বলা হতো। এই যুদ্ধে তারাই প্রথমে এম্বুশ করে আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ইসরাইলি বাহিনীকে এমন মার দিয়েছিল যার কোনো তুলনাই হয়না। কথা না বাড়িয়ে চলুন জেনে নিই এই যুদ্ধ কেন হয়েছিল।

 

ছবিঃ ইয়াম কিপুর যুদ্ধের ম্যাপ

প্রেক্ষাপট :

ব্যাটল অফ ইসমাইলিয়ার আর্টিকেলটি পড়ে থাকলে এতক্ষণে বুঝে গেছেন যে তখন যুদ্ধ হচ্ছিলো সুয়েজ খালের দুই পাড়েই। মিশরের সেকেন্ড এবং থার্ড আর্মির মাঝের সাপ্লাই লাইন কাট করতে মরিয়া ছিল ইসরাইল। কিন্তু সেটা করতে আরো কয়েকদিন সময় লাগবে। ২২ অক্টোবর, ১৯৭৩ সালে ইসমাইলিয়া যুদ্ধ শেষ হয়। এর পরদিনই যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ইসরাইলের অনুরোধে সিজফায়ার টাইমলাইন পিছিয়ে পরদিন সকাল সাতটায় নির্ধারণ করা হয়। এরপর ৩৬ ঘন্টার মধ্যে আসল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। এরই মধ্যে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দল যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছাবে এবং দুই পক্ষ চুক্তি মানছে কিনা পর্যবেক্ষণ করবে। এই সময়ের সুযোগে ইসরাইল-মিশর দুই পক্ষই নিজেদের দখলে রাখা ভূমির পরিমাণ বাড়িয়ে নিতে মরিয়া ছিল। ইসরাইল এই সুযোগে বেশ কয়েকটি কাউন্টার অফেন্সিভ অপারেশন শুরু করে যার একটি ছিল সুয়েজ শহর দখল করা। এখানে ছিল ২.৬০ লাখ লোকের বাস। যুদ্ধের দামামা বেজে উঠতেই বেশিরভাগ লোক অন্যত্র সরে যাওয়ার শহরটি একদমই ফাঁকা ছিল। ইসরাইলের কাছে এটি মোটেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। মিশরের কাছেও কম গুরুত্ব ছিল।

এখানে সুয়েজের ওপাড়ে থাকা মিশরীয় বাহিনীর একটি রসদ সাপ্লাই ইউনিট ছিল। এদের কাছে রাইফেল ছাড়া তেমন কোনো ভারী অস্ত্র ছিল না। ইসমাইলিয়া শহরের পতন হলে এর সুয়েজ শহরের গুরুত্ব বেড়ে যেত। কিন্তু ইসরাইলের ব্যর্থতায় তা হয়নি। মিশরও এখানে শক্তিবৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি। উপরন্তু যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাশ হওয়ায় মিশরীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে গা ছাড়া মনোভাব দেখা যায়। তাদের যুদ্ধরত একাধিক ইউনিট অযথা রক্তপাত এড়াতে আত্মসমর্পণ করে। কেউ কেউ ফ্রন্টলাইন ছেড়ে পিছু হটে অন্যান্যদের সাথে একত্রিত হয়। একারণে সুয়েজ সিটিতে সেনার সংখ্যা বাড়তে বাড়তে প্রায় ৫ হাজার হয়ে যায়। তবে এই সংখ্যা কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়। ট্যাংক-আর্টিলারি নিয়ে হামলা করা শত্রুর বিরুদ্ধে শুধু সংখ্যার জোরে জেতা প্রায় অসম্ভব।

ছবিঃ ইসরাইলি ট্যাংক ভাসমান ব্রিজ দিয়ে সুয়েজ খাল পাড়ি দিচ্ছে।

ইসরাইলি ইন্টিলিজেন্স পলায়নরত মিশরীয় সেনাদের সুয়েজ সিটিতে জড়ো হওয়ার কথা জানতো। কিন্তু আক্রমণ হলে যে তারা যুদ্ধ করার চেষ্টাও করবে না তা পূর্বের একাধিক খণ্ডযুদ্ধে দেখা গেছে। তাই পূর্ণাঙ্গ ব্যাটল প্ল্যান ছাড়াই সুয়েজ শহর দখল করতে বেড়িয়ে পরে ইসরাইলিরা। এই বাহিনীতে ছিল আর্মার্ড ব্রিগেড এবং ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন।

উল্লেখ্য এই পদাতিক সেনারা ছিল ইসরাইলি প্যারাট্রুপার ব্রিগেডের সবচেয়ে কঠোরতম যুদ্ধের ট্রেইনিং পাওয়া সৈনিক। তাদের রণপ্রস্তুতি ছিল চমৎকার। তবে শত্রু মিশরীয় সেনাদের তরফ থেকে শক্ত জবাব না আসায় তারা ভেবেছিল খুব সহজেই সুয়েজ সিটি দখল করবে। কিন্তু দেশপ্রেমিক মিশরীয় মিলিশিয়ারা যুদ্ধের সুযোগ হাতছাড়া করবে কেন? বিনা মেঘে বজ্রপাতের ন্যায় হঠাৎ শুরু হলো আক্রমণ। আর্মার্ড কলামের উপর বৃষ্টির ন্যায় বুলেট-আরপিজি ছুটে আসতে থাকে চারদিক থেকে।

রণপ্রস্তুতি :

প্রথমেই দুই পক্ষের শক্তিমত্তা নিয়ে কিছু বলতে হবে। এই যুদ্ধের আগে ঐ এলাকায় মেজর জেনারেল আব্রাহাম আদানের ছিল তিনটি আর্মার্ড ব্রিগেড এবং একটি প্যারা-ইনফেন্ট্রি ব্যাটালিয়ন। এদেরকে পাঁচ/ছয় ব্যাটালিয়নে ভাগ করে মিশরীয় থার্ড আর্মি ডিভিশনের সাথে যুদ্ধ চালাচ্ছিলেন। রাত দুইটায় হঠাৎ চীফ অফ স্টাফ জেনারেল স্যামুয়েল গোনেন জানতে চাইলেন তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুয়েজ সিটি দখল করতে পারবেন কিনা। কেননা সকাল সাতটার আগে যেকোনো অপারেশন শুরু করলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করবেনা। অতিমাত্রায় আত্মবিশ্বাসী মেজর জেনারেল আদানের দুই-আড়াই ঘন্টার মধ্যে সুয়েজ দখলের জন্য কর্নেল ইয়োশি ইয়োফ এর প্যারাট্রুপার ব্যাটালিয়নকে নির্দেশ দেন। সুয়েজ শহরের বাইরে থাকা কর্নেল কেরেনের আর্মার্ড ব্রিগেডকে তাদের সহায়তার জন্য একটি ট্যাংক ব্যাটালিয়ন পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। মিশরীয়রা আগেই সুয়েজের প্রতিরক্ষার জন্য একটি এন্টি ট্যাংক মিসাইল কোম্পানি পাঠিয়েছিল। কিন্তু শহরে আসার আগেই জেনারেল আব্রাহামের অপর এক আর্মার্ড ব্রিগেডের সাথে লড়াইয়ে ৯টি ট্যাংক ধ্বংসের বিনিময়ে তাদের সব মিসাইল শেষ হয়ে যায়। ফলে সুয়েজে আনগাইডেড আরপিজি ছাড়া আর কোনো ট্যাংক বিধ্বংসী অস্ত্র ছিল না।

তাড়াহুড়ো করে অপারেশনে নামার কারণে ইসরাইলিদের হাতে কোনো সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য, এরিয়াল রিকনসিস ফটো বা সুয়েজ শহরের ডিটেইলসসহ ম্যাপও ছিলনা। কর্নেল ইয়োফ ধরা পড়া মিশরের নয়টি সোভিয়েত এপিসিকেও সৈন্য পরিবহনের কাজে ব্যবহার করেছিলেন। এত তাড়াতাড়ি করে অপারেশন শুরু হয়েছিল যে আর্মার্ড কোরের সেনারা যাত্রাপথে তাদের উপর আরোপিত নির্দেশ সম্পর্কে ব্রিফিং পান যেটা ঘাঁটিতে বসেই পাওয়ার কথা ছিল। কর্নেল কেরেনের পাঠানোর ট্যাংক ব্যাটালিয়ন কমান্ডার ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাহুম জাকেন। তিনি তার ছোট্ট পদাতিক বাহিনীসহ ট্যাংক নিয়ে সুয়েজের রাস্তায় বেড়িয়ে আসেন। কর্নেল ইয়োফের প্যারাট্রুপাররা রাস্তার মোড়গুলো সিকিউর্ড করার দায়িত্ব নেয়।

ছবিঃ ইয়াম কিপুর যুদ্ধে ইসরাইলি প্যারাট্রুপারগণ

মিলিশিয়াদের এম্বুশ :

সকাল এগারোটায় কায়রো-সুয়েজ হাইওয়েতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাকেনের বাহিনীকে দেখা যায়। পুরো আর্মার্ড কলামকে তিন গ্রূপে বিভক্ত করায় সেটি প্রায় এক মাইল লম্বা হয়েছিল। প্রতিটি গ্রূপে ৮টি ট্যাংক, প্রতিটি ট্যাংকের পিছনে সৈনিভর্তি একটি এপিসি/হাফট্রাক। এই কনভয়কে প্রায় তিন মাইল অতিক্রম করে গালফ অফ সুয়েজ তথা শহরের মূল স্কয়ারে পৌঁছাতে হবে। যাত্রাপথে অনেক মিশরীয় সৈনিক ইসরাইলি আর্মার্ড কলাম দেখামাত্রই ভয়ে অস্ত্র ফেলে হাত তুলে অস্ত্রসমর্পন করে ফেলে। কিন্তু ইসরাইলিদের তখন যুদ্ধবন্দী গ্রহণ করার সময় ও ইচ্ছা কোনোটাই ছিল না।

তারা বীরের বেশে সুয়েজ শহরের দিকে এগিয়ে যায়। ট্যাংক এবং এপিসির গর্বিত কমান্ডাররা তখন টারেটের বাইরে নিজেদের মাথা বের করে চারপাশের অবস্থা দেখতে দেখতে যাচ্ছিলেন। মিশরীয় সৈনিকদের থেকে কোনো হামলা না আসায় তাদের মধ্যে গৌরব ও ঢিলেঢালা ভাব চলে এসেছিল।

 

ধীরে ধীরে আর্মার্ড কলামটি আল-আর্বাইন স্কয়ারের রাস্তার দ্বিতীয় ইন্টারসেকশনে চলে আসে। মিলিশিয়া কমান্ডার মাহমুদ আওয়াদ এসময় প্রথম ট্যাংকের উদ্দেশ্যে পরপর দুটো আরপিজি ফায়ার করেন। একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, অপরটি ট্যাংকের মারাত্মক ক্ষতি করে। আরেকটু সামনেই ছিল দুটো সিনেমা হল। এখানে এম্বুশের জন্য ফাঁদ পাতেন আরেক কমান্ডার ইব্রাহিম সোলায়মান। মাহমুদের হামলার পর আর্মার্ড কলাম ভেঙে ট্যাংকগুলো সরে যেতে শুরু করতেই তিনিও আরপিজি ফায়ার করেন। মাত্র ১২ মিটার দূর থেকে তার ফায়ার করে এই রকেট চালিত এন্টি ট্যাংক গ্রেনেডটি একটি ইসরাইলি ট্যাংককে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে। এর ক্রুরা যে কেউ বাঁচেনি তা অনুমান করা যায়। কারণ এর টারেট (কামান) উড়ে গিয়ে আরেকটু দূরে গিয়ে পড়েছিল। সোলায়মানের কয়েক সেকেন্ড পর তার সঙ্গী মোহাম্মদ শারহান ট্যাংকের পিছনে থাকা এপিসির উদ্দেশ্যে আরপিজি ফায়ার করেন। প্যারাট্রুপারদের বহন করা এই সাঁজোয়া যানে সাথেসাথে আগুন ধরে যায়।

আর্মার্ড কলাম লক্ষ্য করে সাথেসাথে চারদিক থেকে ফায়ারিং শুরু হয়। মিলিশিয়াদের দেখাদেখি কিছু মিশরীয় সেনা নবউদ্যমে গুলি ছুড়ে শুরু করে। ইসরাইলি সেনারা সাঁজোয়া যান থেকে নেমে সেগুলোকে কাভার বানিয়ে পাল্টা গুলি শুরু করে। এসময় ভবনগুলোর জানালা থেকে উড়ে আসতে থাকে একাধিক গ্রেনেড ও ডিজেল/মদের বোতল দিয়ে হাতে তৈরি দেশীয় মলাটভ ককটেল। মুহূর্তেই হতাহতের সংখ্যা দ্বিগুন হয় ইসরাইলিদের। চারদিক থেকে এমনভাবে গুলি আসছিল যে কোন দিকে পাল্টা গুলি ছুড়বে তার দিশা পাচ্ছিলো তারা। মিলিশিয়ারা পিস্তল, রাইফেল যার যেটা ছিল সেটা দিয়েই হামলা করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দুই পক্ষের আগ্নেয়াস্ত্রের গর্জন আর মিলিশিয়াদের ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে গোটা আল-আর্বাইন স্কয়ার তখন প্রকম্পিত।

ছবিঃ ধ্বংসপ্রাপ্ত ইসরাইলি ট্যাংক

গোলাগুলি শুরুর মিনিট খানেকের মধ্যেই দেখা গেলো যে ২৪ জন ইসরাইলি ট্যাংক কমান্ডারদের মধ্যে ২০ জনই হয় নিহত নাহয় আহত। মিলিশিয়ারা বেছে বেছে শত্রুর মিলিটারি কমান্ডারদের মেরেছে নাকি নিজেদের বোকামি (মাথা বের করে রাখা) এর কারণে তারা মারা খেয়েছে তা সম্পর্কে জানা যায় না। ইসরাইলিরা মুহূর্তের মধ্যেই নেতৃত্বের সংকটে পড়ে যায় যা সাধারণ সৈনিকদের আতঙ্কিত করে তোলে। তারা ভয়ের চোটে নিজেদের আর্মার্ড কলাম ছেড়ে আশেপাশের বিল্ডিংয়ে পজিশন নিতে দৌড় দেয়। একটি গ্রূপ এক সিনেমা হলে ঢুকার চেষ্টা চালায়। কিন্তু পড়বি তো পড় মালির ঘাড়ে! সেখানেই ছিল কমান্ডার ইব্রাহিম সোলায়মানের টিম। তাদের হামলায় ইসরাইলিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়। আশ্রয় নিতে এসে আরো হতাহতের শিকার হয় তারা। সেই সংখ্যাটি কত তা জানা যায়নি।

তবে এর পাশেই প্যারাট্রুপার ব্রিগেড ইন্টিলিজেন্স গ্রূপের একটি এপিসির উপর আরপিজি হামলা হলে সেটির ৯ জন সৈনিক দৌড়ে গিয়ে পাশের ভবনে আশ্রয় নেয়। এখানেও ঘাপটি মেরে ছিল একদল মিলিশিয়া। তাদের বার্স্ট ফায়ারে উক্ত নয় ইসরাইলি প্যারাট্রুপারের সবাই নিহত হয়েছিল। দখলদার সেনারা যে যার মতো পালানোর চেষ্টা শুরু করে। চারটি ট্যাংকের একটি গ্রূপ ‘সি’দি আল-আর্বাইন’ মসজিদের পাশ দিয়ে পালানোর সময় হামলার শিকার হয়। ইসরাইলি অবাক হয়ে লক্ষ্য করে যে হামলাকারীরা আর কেউ নন, মিশরীয় ১৯ ডিভিশনের সৈনিক! অর্থাৎ মিলিশিয়াদের পাশাপাশি মিশরীয় সেনারাও এবার আক্রমণে এসেছে!

ব্যাটল অফ সুয়েজ : মিশরীয় মিলিশিয়াদের হাতে ইসরাইলের লজ্জাজনক পরাজয় (পর্ব-২)

Add a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।